মাইজভান্ডার দরবার শরীফ

মাইজভান্ডার দরবার শরীফ । Maizbhandar Darbar Sharif  

 

ইসলাম ধর্মে আধ্যাত্মিক সাধনার ধারাবাহিকতায় অষ্টাদশ শতাব্দির কিছু পর  " গাউছুল আজম হযরত সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী কাদ্দাছাল্লাহু ছিরহুল আজিজ " আল্লাহ্‌ প্রদত্ত আধ্যাত্মিক জ্ঞান ও শক্তি এবং কোরআন-হাদীসের শিক্ষাকে ধারন করে প্রতিষ্ঠা করেন মাইজভান্ডারী কাদেরিয়া ত্বরিকা। আর সেই মাইজভান্ডারী কাদেরিয়া ত্বরিকাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে মাইজভান্ডার দরবার শরীফ । মাইজভান্ডার দরবার শরীফ - চট্টগ্রামের, ফটিকছড়ি উপজেলার মাইজভান্ডার গ্রামেই অবস্থিত।

 

 সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী কাদ্দাছাল্লাহু ছিরহুল আজিজ রওজা শরীফ

সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী কাদ্দাছাল্লাহু ছিরহুল আজিজ রওজা শরীফ

গাউছুল আজম হযরত সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী কাদ্দাছাল্লাহু ছিরহুল আজিজ এর বংশ পরিচয় : 

 

আহমদ উল্লাহর পুর্ব পুরুষ সৈয়দ হামিদ উদ্দিন, গৌড় নগরে ইমাম এবং কাজীর পদে নি্য়োজিত ছিলেন। তিনি গৌড় নগরে মহামারীর কারণে ১৫৭৫ সনে চট্রগ্রামের পটিয়া থানার কাঞ্চন নগরে বসতি স্হাপন করেন; সেখানে তার নামানুসারে হামিদ গাঁও নামে একটি গ্রাম আছে। তার এক পু্ত্র সৈয়দ আব্দুল কাদের ফটিকছড়ি থানার আজিমনগর গ্রা্মে ইমামতি উপলক্ষে এসে বসতি স্হাপন করেন। তার পুত্র সৈয়দ আতাউল্লাহ তৎ পুত্র সৈয়দ তৈয়বুল্লাহর মেজ় পুত্র সৈয়দ মতিউল্লাহ মাইজভাণ্ডার গ্রামে এসে বসতি স্হাপন করেন।

 

শিক্ষা জীবন ঃ

 

আহমদ উল্লাহ গ্রামের মক্তবের পড়ালেখা শেষ করার পর ১২৬০ হিজরীতে উচ্চ শিক্ষার্জনের উদ্দেশ্যে কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হন। তিনি ১২৬৮ হিজরীতে বিশেষ কৃতিত্বের সাথে পরীক্ষায় পাশ করেন। সেখানেই তিনি তৎকালীন সর্বোচ্চ পর্যায়ের শিক্ষা সমাপন করে ধর্মীয় নানা অনুষ্ঠানাদিতে আমন্ত্রিত অতিথি বা বক্তা হিসাবে যথেষ্ট সুনামের সাথে ধর্মীয় প্রচার-প্রচারণার কাজে লিপ্ত ছিলেন।

 

কর্ম জীবন ঃ 

তিনি শিক্ষা জীবন শেষে করে হিজরী ১২৬৯ সালে ব্রিটিশ শাসনাধীন অবিভক্ত ভারতের যশোর অঞ্চলের বিচার বিভাগীয় কাজী পদে যোগদান করেন এবং একই সঙ্গে মুন্সেফী অধ্যায়ন শুরু করেন। পরবর্তিতে ১২৭০ হিজরীতে কাজী পদে ইস্তফা দিয়ে তিনি কলিকাতায় মুন্সী বু আলী মাদ্রাসায় প্রধান মোদাররেছ হিসাবে যোগদান করেন। পরবর্তি সময়ে মুন্সেফী পরীক্ষায় ও তিনি প্রথম স্থান অধিকার করে ছিলেন।

আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী হাদিস, তাফসির, ফিকহ, মন্তেক, হিকমত, বালাগত, উছুল, আকায়েদ, ফিলছফা, ফারায়েজ সহ যাবতীয় বিষয়ে অত্যন্ত অভিজ্ঞ ছিলেন। আরবী, উর্দু, বাংলা ও ফারসি ভাষায় তিনি বিশেষ পারদর্শী ছিলেন। তৎকালীন সময়ে ওয়ায়েজ এবং বক্তা হিসাবে তার নামডাক বিশেষ ভাবে ছডিয়ে পড়ে। অল্প কিছু দিন পরই তিনি আধ্যাত্মিক জীবন যাপনে আত্ম নিয়োগ করেন। তখন হতে তিনি বাকি জীবন একজন সুফি সাধক হিসাবে অতিবাহিত করেন।

আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী রাসুল (সঃ)-এর বংশধর ও উক্ত তরিকার খেলাফত প্রাপ্ত সৈয়দ আবু শাহামা মুহাম্মদ ছালেহ আল কাদেরী লাহোরী (রঃ) নিকট বায়েত গ্রহনের মাধ্যমে বেলায়ত অর্জন করেন এবং সৈয়দ দেলওয়ার আলী পাকবাজ (রঃ) এর নিকট হতে এত্তাহাদী কুতুবিয়তের ক্ষমতা অর্জন করেন। তিনি দিনে দ্বীনি শিক্ষাদান ও রাতে এবাদত ও রেয়াজতের মাধ্যমে সময় কাটাতেন। এভাবে কঠোর সাধনার ফলে তিনি আধ্যাত্মিক জগতের সর্বোচ্চ বেলায়ত অর্জন করেছিলেন।

 

খলিফা ঃ 

আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী জীবদ্দশায় তাঁর সুফি তরীকার দীক্ষা সমাজে মানুষের মাঝে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে বহু সুফি প্রতিনিধি বা খলিফা নিয়োগ করেন বলে উল্লেখ রয়েছে। তন্মধ্যে ২০৪ খলিফার নাম ইতঃপূর্বে বেশ কয়েকটি প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক গণ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

 

সাংসারিক জীবন ঃ 

 

আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী ১২৭৬ হিজরীতে ৩২ বছর বয়সে আজিম নগর নিবাসী মুন্সী সৈয়দ আফাজ উদ্দিন আহমদের কন্যা সৈয়দা আলফুন্নেছা বিবির সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। কিন্ত বিয়ের ছয় মাসের মাথায় তাঁর স্ত্রী মারা যান। সেই বছরই তিনি পুনরায় সৈয়দা লুৎফুন্নেছা বিবিকে বিয়ে করেন। ১২৭৮ হিজরী সালে তাঁর প্রথম মেয়ে সৈয়দা বদিউন্নেছা বিবি জন্মগ্রহন করেন। কিন্তু মেয়েটি চার বছর বয়সে মারা যায়। এরপর তাঁর আরোও একটি ছেলে জন্মগ্রহন করে অল্প দিনের মধ্যে মারা যান। অতঃপর ১২৮২ হিজরীতে দ্বিতীয় পুত্র সৈয়দ ফয়জুল হক (রঃ) এবং ১২৮৯ হিজরী সালে দ্বিতীয় কন্যা সৈয়দা আনোয়ারুন্নেছা জন্মগ্রহন করেন। তাঁর দ্বিতীয় পুত্রও পিতার পুর্বে ইন্তেকাল করেন।

ওফাত ঃ 

আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী ১৯০৬ সালের ২৩ জানুয়ারি (১০ মাঘ, ১৩১৩ বঙ্গাব্দ) আশি বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। মাইজভান্ডারেই তিনি সমাহিত হন এবং তার কবরের উপর বর্তমানে আধুনিক স্থাপত্য শৈলী খচিত মাজার বিদ্যমান।

শিষ্যবৃন্দ ঃ

সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারীর এ পর্যন্ত প্রায় ১৫৬ জন শিষ্যের নাম ঠিকানা এবং মাজার সম্পর্কে জানা যায়; যারা সারা বাংলাদেশ, বার্মা এবং পাকিস্তানে ছড়িয়ে আছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন - সৈয়দ গোলামুর রহমান, সৈয়দ আমিরুজ্জমান শাহ, আব্দুল আজিজ, মিয়া হোসাইন, সৈয়দ আমিনুল হক মাইজভান্ডারী, সৈয়দ ফয়জুল হক প্রমুখ।

 

==মাইজভান্ডারী ত্বরিকা==

 

ত্বরিকত’ মানে আল্লাহ্‌র দিকে বান্দার প্রত্যাবর্তনের পথ। এই পথের দুটি দিক রয়েছে। জাহের ও বাতেন। বাহ্যিক শরিয়ত পালনের মাধ্যমে বান্দা তার জাহের কে পবিত্র করে আর সাথে সাথে আধ্যাত্মিক সাধনার মাধ্যমে হাকিকতে শরীয়ত ও ধর্ম পালনের নিগুঢ়তম উদ্দেশ্য সাধনে ব্রতি হয়। এই চর্চাই সূফী ত্বরিকার মৌলিক ভাব। ত্বরিকা ইসলাম ধর্মে কোন নব আবিষ্কার নয়। ইসলামের প্রথম যুগে আধ্যাত্মিক সাধনার ছায়ায় ত্বরিকতের হাকিকত বর্তমান ছিল। হযরত রাসুল (ﷺ) সাহাবাদের কে ধর্মীয় দিক নির্দেশনার অংশ হিসেবে আধ্যাত্মিক সাধনার তালীম ও তারবীয়ত দিয়েছেন। এমন কি বায়াতে ইসলাম গ্রহনের পর ও সাহাবাদের কাছ থেকে হযরত রাসুল (ﷺ) বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যাপারে পুনঃ বায়াত গ্রহন করেছেন।

 

আল্লাহ্‌তায়লা পবিত্র কোরআন এ বলেছেন “যারা আমার পথে সাধনা করে, অবশ্যই আমি তাদেরকে আমার অনেক গুলো পথ প্রদর্শন করবো। নিশ্চই আল্লাহ্‌তায়লা ইহসানকারীদের সাথে আছেন”। (সুরা আনকাবুত : ৬৯)।

 

এই আয়াতে আল্লাহ্‌ তায়লা অনেক গুলো পথ প্রদর্শন এর কথা বলেছেন, কিন্তু প্রশ্ন থাকতেই পারে !

কি সেই পথ ???

কিভাবে পাবো সেই পথের ঠিকানা ???

 

পবিত্র কোরআন মাজিদে আল্লাহ্‌ তায়লা বলেন, "হে ঈমানদার লোকেরা! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং তাঁর নৈকট্য লাভের উসিলা অন্বেষণ করো, আর তাঁর পথে জিহাদ করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।" (সূরা আল মায়িদা : ৩৫)

 

এই আয়াতের মাধমে আমরা বুঝতে পারি, আল্লাহ্‌র নৈকট্য পেতে হলে আমাদের উসিলা তালাশ করতে হবে।

 

পাঠকের কাছে আমার প্রশ্ন কি সেই উসিলা ???

এবং একটু আগেই লিখেছি ,

কি সেই পথ ???

কিভাবে পাবো সেই পথের ঠিকানা ???

 

একটু চোখ বন্ধ করে ভাবুনতো !!!

আসলে কি সেই পথ ??? আর কি সেই উসিলা ???

 

আল্লাহ্‌র কসম করে বলছি আপনি ভাবুন, আরও ভালো করে ভাবুন !!!

 

আর আমি আরও কিছু কোরআন মাজিদের বানী দিচ্ছি,

 

  • হে রাসূল! যেসব লোক আপনার নিকট বাইয়াত হচ্ছিল, তারা আসলে আল্লাহর নিকটই বাইয়াত হচ্ছিল। তাদের হাতের উপর আল্লাহর কুদরতের হাত ছিল।হে রাসূল! আল্লাহ মুমিনদের উপর সন্তুষ্ট হয়েছেন যখন তারা গাছের নীচে আপনার নিকট বাইয়াত হচ্ছিল। ( সূরা ফাতহ : ১৮ )

 

  • অপর আয়াতে আল্লাহ বাইয়াত বা প্রতিশুতি বদ্ধ হওয়ার পর তা রক্ষাকারী সম্পর্কে বলেন :-فَلْيُقَاتِلْ فِي سَبِيلِ اللّهِ الَّذِينَ يَشْرُونَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا بِالآخِرَةِ وَمَن يُقَاتِلْ فِي سَبِيلِ اللّهِ فَيُقْتَلْ أَو يَغْلِبْ فَسَوْفَ نُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًاযে ব্যক্তি তার ওয়াদা (প্রতিশ্রুতি) পূর্ণ করবে এবং তাকওয়ার নীতি অবলম্বন করবে, সে আল্লাহ পাকের প্রিয়জন হবে। আর নিশ্চিতভাবে আল্লাহ পাক মুত্তাকীদের ভালবাসেন। (সূরা আলে ইমরান : ৭৬)

 

  • সহিহ হাদীসে আছে :-عَنْ اِبْنِ عُمَرَ (رض) عَنِ النَّبِيْ (صلعم) قَالَ مَنْ مَاتَ وَلَيْسَ فِيْ عُنُقِه بَيْعَ’ُ مَاتَ مَيْتَةً جَاهِلِيْةً ـ (مسلم )হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) রাসূলে পাক (সা:) হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন,যে ব্যক্তি বাইয়াতের বন্ধন ছাড়াই মারা গেল সে জাহিলিয়াতের মৃত্যুবরণ করল। (মুসলিম)

 

  • অপর হাদিসে আছে :-

 

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنْ دِيْنَارٍ (رض) اَنَّهُ سًمِعَ اللهِ بْنْ عُمَرَ (رض) يُقَوْلُ كُنَّا نَبَايِعْ رَسُوْلُ اللهِ (صلعم) عَلَى السَّمْعِ وَالطَّاعَةِ يَقًُوْلُ لََنَا فِيْهَا اِسْتَطَيْعْتُمْ ـ (مسلم)

 

আব্দুল্লাহ ইবনে দিনার (রা) হতে বর্ণিত, তিনি হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা) কে বলতে শুনেছেন যে, আমরা রাসূল (সা:) এর কাছে বাইয়াত গ্রহণ করতাম, শ্রবণ ও আনুগত্যের উপর এবং তিনি আমাদের সামর্থ্য উক্ত আমল করার অনুমতি দিয়েছেন। (মুসলিম)

 

তবে পীর শব্দটি পবিত্র কোরআন পাকে নেই। কারন পীর শব্দটি ফার্সি ভাষা হতে বাংলা ভাষায় প্রবেশ করেছে । যেমনঃ নামাজ, রোজা, ফিরিস্তা, খোদা, ইত্যাদি শব্দগুলো কোরআন শরীফে-এ নেই। কারন উহা ফার্সি শব্দ, তবে এর প্রতিটি ফার্সি শব্দেরই প্রতিশব্দ কোরআন শরীফে আছে, যেমনঃ নামাজ-সালাত, রোজা-সাওম, ফিরিশ্তা-মালাকুন ইত্যাদি।

আবার সালাত আরবি শব্দটি স্থান বিশেষ বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়। অনুরূপ ভাবে পীর ফার্সি শব্দের প্রতিশব্দ পবিত্র কোরআন শরীফের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন শব্দে প্রকাশ করেছেন, যথাঃ 'অলি' বহুবচনে আউলিয়া, মুর্শিদ, ইমাম, বহুবচনে আইম্মা, হাদি, ছিদ্দিকিন, ইত্যাদি।

 

  • হে মুমিনগণ! তোমরা অনুস্মরণ কর, আল্লাহ্ পাক এর, তাঁর রাসুল পাক (সাঃ) এর এবং তোমাদের মধ্যে যারা উলিল আমর রয়েছে তাদের। (সুরা ৪ নিসা: ৫৯)
[ উলিল আমর এর মানে হল ন্যায় বিচারক/ধর্মীয় নেতা/ওলি-আউলিয়া/­পীর-মুর্শিদ ইত্যাদি শব্দ ধরা যেতে পারে ]

 

  •  স্মরণ কর! সেই দিনকে যেদিন আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়কে তাঁদের (ইমাম) ধর্মীয় নেতা সহ আহ্বান করব।
    ( সুরা ১৭ বনী-ইসরাঈল: ৭১ )

 

 

 

  •  অনুসরণ কর তাদের, যারা তোমাদের কাছে কোন বিনিময় কামনা করে না, অথচ তারা সুপথ প্রাপ্ত।                              (সুরা ৩৬ ইয়া-সীন: ২১)

( এখানে রাসুলের কথা বলা হয়েছে রাসুলুল্লাহ (সা) এর দ্বীন প্রচারের সিলসিলা কিয়ামত পর্যন্ত জারি থাকবে আল্লাহর পীর/ওলীগন দ্বীন প্রচার করে যাচ্ছেন যেমন হিন্দুস্থানে হযরত খাজা মইনুদ্দিন চিশতী আজমিরি (রহঃ) ৯০ লক্ষ মুসলমান করেছিল। বাংলাদেশে কোন নবী আসেনি সাহাবীও না পীর/ওলীগন দ্বারা কোটি কোটি মুসলমান হয়েছে। তাদের কাছে মুসলমানগন বায়াত গ্রহন করেছিল মুরিদ হয়েছিল। )

 

  • যে বিশুদ্ধ চিত্তে আমার অভিমুখী হয়, তার পথ অনুসরণ করবে। অতঃপর তোমাদের প্রত্যাবর্তন আমারই দিকে এবং তোমরা যা করতে, আমি সে বিষয়ে তোমাদেরকে জ্ঞাত করবো। ( সুরা ৩১ লুকমান: ১৫ )

( এখানে কামেল পীরের কাছে বায়াত গ্রহন করার ইংগীত হয়েছে শরীয়ত বিরোধী কোন নামধারী পীর এর কাছে নয় )

 

  • নিশ্চয়ই আল্লাহ্ পাকের রহমত (মুহসিনিন) আউলিয়া কিরামগনের নিকটবর্তী । ( সুরা ৭ আরাফ: ৫৬ )

 

  • সাবধান! নিশ্চয় আল্লাহর অলিগণের কোন ভয় নেই এবং তারা কোন বিষয় এ চিন্তিতও নহেন। তাঁদের জন্য আছে সুসংবাদ দুনিয়া ও আখেরাতে, আল্লাহর কথার কোন পরিবর্তন বা হের-ফের হয় না, উহাই মহা সাফল্য। ( সুরা ১০ ইউনুস: ৬২-৬৪ )

 

  • যখন আল্লাহর পীর/অলীগণ দেখবে যে তারা মুক্তি পেয়ে গেল, তখন তাদের মুরিদদের জন্য উনারা আল্লাহর কাছে আবেদন করবে "হে আমার প্রতিপালক এরা আমাদের রূহানী সন্তান, যাদেরকে তুমি জাহান্নামে নিক্ষেপ করেছো তারা আমাদের সাথে নামাজ পড়তো, আমাদের সাথে রোজা রাখতো এবং আমাদের সাথে সৎকাজ করত"। তখন আল্লাহ বলবেন "যাদের অন্তরে শুধুমাত্র এক দিনার ওজন পরিমাণও ঈমান পাবে তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে নিয়ে আসো । তাদের মুখমন্ডল তথা আকৃতিকে জাহান্নামের জন্য হারাম করে দেওয়া হয়েছে"।

অতঃপর উনারা (পীর/অলীগণ) সেখানে জাহান্নামীদের নিকট যাবেন। সেখানে গিয়ে দেখবেন কেউ কেউ পা পর্যন্ত কেউ পায়ের গোড়ালী পর্যন্ত আগুনে ডুবে আছে। এর মধ্যে উনারা তাদের মুরিদগণকে জাহান্নাম থেকে বের করে নিয়ে আসবে।  (সহীহ বুখারী , খন্ড ২ পৃষ্ঠা ১১০৭ । হাদীস নং ৭০০১ )

 

  • আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত :

 

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন -

আল্লাহ্ তা’আলা ইরশাদ করেছেন : যে ব্যাক্তি আমার পীর/আউলিয়া-অলীর সাথে শত্রুতা করে , আমি তার সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করছি। আমার বান্দার প্রতি যা ফরয করেছি তা দ্বারাই সে আমার অধিক নৈকট্য লাভ করে। আমার বান্দার নফল কাজের মাধ্যমেও আমার নৈকট্য লাভ করতে থাকে। অবশেষে আমি তাকে ভালবেসে ফেলি। যখন আমি তাকে ভালবাসি, তখন আমি তার কান হয়ে যাই, যা দিয়ে সে শোনে ।  তার চোখ হয়ে যাই যা দিয়ে সে দেখে, তার হাত হয়ে যাই যা দিয়ে সে ধরে। সে আমার কাছে কিছু চাইলে, আমি তাকে তা দি । সে যদি আমার নিকট আশ্রয় কামনা করে, তাহলে আমি তাকে আশ্রয় দেই। আমি যা করার ইচ্ছা করি, সে ব্যাপারে কোন দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগি না কেবল মুমিনের আত্মার ব্যাপার ছাড়া। সে মৃত্যুকে অপছন্দ করে আর আমি তার মন্দকে অপছন্দ করি। (বুখারী: ৬৫০২)

 

  •  সাবধান!  নিশ্চয় আল্লাহর অলিগণের কোন ভয় নেই এবং তারা কোন বিষয়ে চিন্তিতও নহে। তাঁদের জন্য আছে সুসংবাদ দুনিয়া ও আখেরাতে, আল্লাহ্র কথার কোন পরিবর্তন বা হের-ফের হয় না, উহাই মহা সাফল্য। (সুরা ১০ ইউনুস: ৬২-৬৪)

 

  •  নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক উনার রহমত মুহসিন বা আল্লাহওয়ালা গণদের নিকটে। (সূরা আ’রাফ : আয়াত শরীফ ৫৬)

 

  • সূরায়ে ফাতিহায় মহান রাব্বুল আলামীন তাঁর নিয়ামাতপ্রাপ্ত বান্দারা যে পথে চলেছেন সেটাকে সাব্যস্ত করেছেন সীরাতে মুস্তাকিম।আর তার নিয়ামত প্রাপ্ত বান্দা হলেন –

الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ

অনুবাদ : যাদের উপর আল্লাহ তাআলা নিয়ামত দিয়েছেন, তারা হল নবীগণ, সিদ্দীকগণ, শহীদগণ, ও নেককার বান্দাগণ।     (সূরা নিসা-৬৯)

 

আর নেককারদের মধ্যে এখন সর্বোত্তম কাউকে খুজলে ওলী-আউলিয়া কামেল পীর বুজুর্গ ছাড়া আর কাউকে পাবেন না কারন বার বার বলছি এখন নবী-রাসুল বা কোন সাহাবীকে তো আর পাচ্ছেন না।

 

  • আব্দুল্লাহ ইবনে দিনার (রা) হতে বর্ণিত :

 

তিনি হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা) কে বলতে শুনেছেন যে, আমরা রাসূল (সা) এর কাছে বাইয়াত গ্রহণ করতাম, শ্রবণ ও আনুগত্যের উপর এবং তিনি আমাদের সামর্থ্য উক্ত আমল করার অনুমতি দিয়েছেন। (মুসলিম)

 

এখনো কি ভাবছেন ???

এতো কোরআন-হাদীসের সোর্স দেওয়ার পরও কি আপনি বলবেন ওয়াবীদের মত পীর/আউলিয়া-অলী বলতে কিছু নেই ???

যদি তাই হয় আপনার উত্তর, তার প্রতিউত্তরে আল্লাহ্‌ আপনাকে হেদায়েত দান করুক এটা বলা ছাড়া আর অন্য কিছু বলার ভাষা আমাকে দেন নাই- আল্লাহ্‌ আপনাকে হেদায়েত দান করুক !

 

 

 

 

== মাইজভান্ডারী ত্বরিকার বৈশিষ্ট্য ==

 

মাইজভান্ডারী ত্বরিকার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ইসলামি ভাবাদর্শকে পরিপূর্ণভাবে আত্মস্থ করার পাশাপাশি একই সাথে অসামম্প্রদায়িক, উদার ও সংস্কারমুক্ত, নৈতিক ধর্ম-প্রাধান্যসম্পন্ন, শ্রেনী-বৈষম্যহীন ও মানবদরদী ।

 

== মাইজভান্ডারী ত্বরিকার মূল লক্ষ্য==

 

রাসুল (স:) এর পবিত্র সজরা মোবারক অনুযায়ী বাইত করানোর মাধ্যমে, আধ্যাত্মিক জ্ঞান ও ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহ্‌র নৈকট্য লাভ করার শিক্ষা দেওয়া।

 

অনেকের মনে মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে তাই ক্লিয়ার করছি সজরা মোবারক কি ???

সজরা মোবারক হচ্ছে হুজুরে পাক রাসুল (স:) হচ্ছেন আধ্যাত্মিক জ্ঞান ও শক্তি এবং রাসুলে পাক (স:) ওফাতের পূর্বে সেই সজরা মোবারক দান করেন হযরত আলী (রা:) কে এবং হযরত আলী (রা:) ওফাতের পূর্বে সজরা মোবারক দিয়েছেন উনার নিজ পুত্র ঈমাম হোসাইন (র:) কে এবং যুগে যুগে ক্রমানয়ে সেই সজরা মোবারক হাত বদল হয়ে আসছে এবং উনারা সকলেই হচ্ছেন আউলাদে রাসুল। নিম্নে আমি সজরাধারী সকল আউলাদে রাসুলদের লিস্ট ইমেজ আকারে দিচ্ছি।

 

== মাইজভান্ডার দরবার শরীফের বাইতি প্রথা ও সজড়া  ==

 

পবিত্র কোরআন মাজিদে, আল্লাহ্‌ বলেন- " হে হাবীব আপনি বিস্ববাসীকে বলে দিন যে, আমি তোমাদের থেকে কোন বিনিময় চাইনা, কিন্তূ আমার আহলে বাইতের মুহাব্বত, সম্মান আমি তোমাদের থেকে চাই। ( সূরা শূরা, ২৩নং আয়াত)।

 

এই আয়াত শরীফ অবতীর্ন হওয়ার পর  হুজুরে পাক রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম উনার আহলে বাইতকে যেভাবে ডেকেছিলেন- " একদিন নবী করীম (স:)- হযরত আলী (রা:), ফাতিমা (রা:), হাছান (র:) ও হোছাইন (র:) কে ডাকলেন, তারা যখন আসলেন তখন নবী করীম (স:) তাদেরকে নিচ চাদর মোবারক দিয়ে ঢেকে ফেললেন এবং বললেন হে আল্লাহ্‌ এরা হলেন আমার আহলে বাইত, এদের থেকে আপনি সকল অপবিত্রতা দূর করে দিন এবং এদেরকে পরিপূর্ণভাবে পবিত্র করুন" ।

আহলে বাইতের মর্যাদা সম্বলিত আয়াতটি যখন আবতীর্ন হল তখন সাহাবায়ে কেরাম (র:) রাসুল (স:) এর নুরানী দরবারে অতীব আগ্রহ ও আদবের সাথে জানতে চাইলেন যে, ইয়া রাসুলাল্লাহ (স:) আপনার নিকট আত্মীয় মহান ব্যাক্তিবর্গ কারা ??? যাদের তাজীম ও আন্তরিক ভালোবাসা আল্লাহ্‌ আমাদের উপর ওয়াজিব করে দিয়েছেন। তখন রাসুল (স:) এরশাদ করলেন যে, তারা হলেন হযরত আলী (রা:), ফাতিমা (রা:), হাছান (র:), হোছাইন (র:) ও তারা (হাছান-হোছাইন) উভয়ের সন্তানগণ (বংশধর)।

অপর এক হাদিসে '''" আবনা-হুমা "''' শব্দ দ্বারা হাছানী ও হোছাইনী বংশের যত আওলাদে রাসুল (স:) পৃথিবীর বুকে অবস্থান করবেন তাদেরকে সম্মান ও তাজীম করা দুনিয়ার সকল মানুষের উপর ওয়াজিব।

মাইজভান্ডার দরবার শরীফের গাউছিয়া আহমদিয়া মঞ্জিলের বর্তমান সাজ্জাদানশীন পীরে মুকাম্মেল আওলাদে রাসুল (স:) হযরত মওলানা শাহ্‌ সূফী এমদাদুল হক মাইজভান্ডারী (মাদ্দা জিল্লাহুল আলী) হলেন রাসুল (স:) এর নুরানী শাজরার ধারাবাহিকতার ৩৯তম আওলাদে রাসুল আহলে বায়াত।

Sojra

== সাজ্জাদানশীনে দরবারে গাউছুল আজম ==

 

গাউছুল আজম হযরত সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী (কঃ) ওফাতের পূর্বে আপন নাতী হযরত সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভান্ডারী (কঃ) কে বালেগ ঘোষনা করে মাইজভান্ডার দরবার শরীফে আধ্যাত্মিক উত্তরাধীকারী নির্ধারন করে যান। হযরত কেবলা কাবা (কঃ) এই প্রসঙ্গে বলেন, “আমার ‘দেলা ময়না’ বালেগ। দেলা ময়না গদীতে বসবে”।

সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভান্ডারী (কঃ) পীর হওয়ার জন্য খেলাফতপ্রাপ্ত হওয়ার শর্তের প্রবক্তা ছিলেন। তার দৃষ্টিতে যিনি আপন পীর সাহেবের কাছ থেকে সরাসরি ও স্পষ্টভাবে খেলাফত পাননি তিনি কাওকে বায়াত দেওয়ার যোগ্য নন।

খেলাফত প্রদানপূর্বক সাজ্জাদানশীন মনোনয়ন এর মাধ্যমে গাউছিয়ত জারী রাখার নিয়মের অনুসরণে হযরত সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভান্ডারী (কঃ) তাঁর জীবদ্দশায় উনার তৃতীয় পুত্র হযরত সৈয়দ এমদাদুল হক মাইজভান্ডারী (মঃ জিঃ আঃ) কে নিজ গদীর উত্তরাধীকারি ও মাইজভান্ডার দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন সাব্যস্ত করে যান। এবং বর্তমান মাইজভান্ডার দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীনে দরবারে গাউছুল আজম হচ্ছেন সাজ্জাদানশীনে দরবারে গাউছুল আজম আলহাজ্ব হযরত মওলানা শাহ সূফী সৈয়দ এমদাদুল হক মাইজভাণ্ডারী (ম. জি. আ.)।

 

== মাইজভান্ডার দরবার শরীফের সংগঠন সমূহ ==

 

  •  আঞ্জুমানে মোত্তাবেয়ীনে গাউছে মাইজভান্ডারী (শাহ্‌ এমদাদীয়া)
  • মাইজভান্ডারী শাহ্‌ এমদাদীয়া সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কমিটি
  • গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী রিচার্স ইনস্টিটিউশন
  • গাউছিয়া আহমদিয়া এমদাদিয়া খেদমত কমিটি
  • মাইজভান্ডারী শাহ্‌ এমদাদীয়া ব্লাড ডোনার্স গ্রুপ
  • গাউছিয়া আহমদিয়া এমদাদিয়া ওলামা কমিটি
  • মাইজভান্ডারী ফাউন্ডেশন
  • মাইজভান্ডারী প্রকাশনী

== আল্লাহ্‌র নৈকট্য লাভের পথ অথবা সপ্তকর্ম পদ্ধতি ==

 

"লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" জিকিরের মাধ্যমে আপন নফস এর সাথে জিহাদ করার মাধ্যমে নফসে ইনসানীর কুপ্রবৃত্তি বন্ধ করে রূহে ইনসানীর সুপ্রবৃত্তি জাগ্রত করার জন্য গাউছুল আজম হযরত সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী (কঃ) নির্বিঘ্ন ও সহজসাধ্য মাধ্যম হিসেবে সপ্তকর্ম পদ্ধতি পরিচিত করেছেন।

 

১) ফানা আনিল খাল্ক

ফানা আনিল খাল্ক বলতে বোঝায়, কারো নিকট কোন প্রকার উপকারের আশা বা কামনা না থাকা। যার ফলে মানুষের মন আত্মনির্ভরশীল হয় এবং নিজ শক্তি সামর্থের প্রতি যথাযথ বিশ্বাস ও আস্থা অর্জন হয়।

২) ফানা আনিল হাওয়া

ফানা আনিল হাওয়া বলতে বোঝায়, যা না হইলে চলে, সে রকম কাজ ও কথাবার্তা হইতে বিরত থাকা। যার ফলে মানুষের জীবন সহজ ও ঝামেলা মুক্ত হয় ।

৩) ফানা আনিল এরাদা

ফানা আনিল এরাদা বলতে বোঝায়, মহান আল্লাহ্‌তায়লার ইচ্ছা শক্তিকেই প্রাধান্য দেওয়া এবং নিজ ইচ্ছা বা বাসনাকে খোদার ইচ্ছার নিকট বিলীন করা যাহার ফলে ছুফী মতাদর্শে তছলিম ও রজা হাছিল হয় ৷

৪) মউতে আবয়্যাজ

মউতে আবয়্যাজ বলতে বোঝায়, সাদা মৃত্যূ । যা উপবাস এবং সংযমে আয়ত্ব হয়, যার ফলে মানুষের মনে উজ্জ্বলতা দেখা দেয় ৷ পবিত্র রমজান মাসের রোজা, নফল রোজা ইত্যাদি উপবাস ও সংযম পদ্ধতি ৷

৫) মউতে আছওয়াদ

মউতে আছওয়াদ বলতে বোঝায় কালো মৃত্যু যা শত্রুতার শত্রুতা ও নিন্দাতে হাছিল হয় । অন্যের সমালোচনার পরে, মানুষ যখন নিজের মধ্যে উল্লেখিত সমালোচনার খুঁজে পায় তখন নিজেকে উক্ত দোষ হতে সংশোধনের অনূতপ্ত হৃদয়ে আল্লাহতায়ালার নিকট ক্ষমা প্রার্থনার সুযোগ পায়। যদি অন্যের আরোপিত দোষ নিজের মধ্যে খুঁজে না পায়, নিজেকে দোষমুক্ত বলে নিশ্চিত হয়, তখন আল্লাহতায়লার নিকট শুকরিয়া আদায়ের মনোবল প্রাপ্ত হইয়া নিজের ব্যক্তিত্বে বিরাট শক্তির সমাবেশ দেখতে পায়৷ আর তখন সমালোচনাকারীকে বন্ধু বুলে মনে হয়৷

৬) মউতে আহমর

মউতে আহমর বলতে বোঝায় লাল মৃত্যূ । এটি কামভাব ও লালসা হতে মুক্তি হাছিল হয় এবং বেলায়ত প্রাপ্ত হয়ে অলীয়ে কামেলদের মধ্যে গণ্য হয় ৷

৭) মউতে আখজার

মউতে আখজার বলতে সবুজ মৃত্যূ । নির্বিলাস জীবন যাপনে অভ্যস্ত হলে মউতে আখজার হাছিল হয় যার ফলে মানুষের অন্তরে স্রষ্টার প্রেম ভালবাসা ছাড়া অন্য কামনা বাসনা থাকেনা । ইহা বেলায়তে খিজরীর অন্তর্গত।

 

মাইজভান্ডার দরবার শরীফ

এমদাদুল হক মাইজভান্ডারী

 

আর এই সপ্তকর্ম পদ্ধতি হাছিলের মাধ্যমে আল্লাহ্‌র নৈকট্য লাভ করতে হলে আপনাকে বর্তমানে সাজ্জাদানশীনে দরবারে গাউছুল আজম আলহাজ্ব হযরত মওলানা শাহ সূফী সৈয়দ এমদাদুল হক মাইজভাণ্ডারী (ম. জি. আ.) এর কাছে গিয়ে বাইত গ্রহন করতে হবে আর বাইত গ্রহন করার পর সৈয়দ এমদাদুল হক মাইজভাণ্ডারী হবেন আপনার পীর আর আপনি আপনার পীরের নির্দেশ অনুযায়ী ইবাদত করতে পারলে তবেই আপনার দ্বারা সপ্তকর্ম পদ্ধতি হাছিল করা সম্ভব।